ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি তাদের দায়িত্ব পালনের এক বছর পূর্ণ করেছে। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক বছর পূর্তির এই সময়ে সংগঠনের কার্যক্রম, অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, গত ১২ মাস সংগঠনটির জন্য সহজ ছিল না, তবে সবার সহযোগিতা ও একাগ্রতায় তারা সফলভাবে এই সময় পার করতে পেরেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্যকে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মোহাম্মদ মিঠুন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, গত এক বছরে ক্রিকেটারদের অধিকার ও কল্যাণের প্রশ্নে সংগঠনটি কোনো ধরনের ছাড় দেয়নি।
তিনি জানান, বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে তারা কাজ করার চেষ্টা করেছেন। প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি সংগঠনটি সব ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে থেকেছে বলে তিনি দাবি করেন। গত এক বছরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ক্রিকেটারদের পাশে থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
বিশেষ করে বিপিএল আয়োজন না হওয়ার কারণে ক্রিকেটারদের যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, সেই বিষয়টি কোয়াবের নজরে ছিল। এই ক্ষতি কীভাবে কিছুটা পুষিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংগঠনটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান। কোয়াবের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্বার্থ ও দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোয়াবের এই এক বছর পূর্তিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠনও অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কল্যাণ, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কোয়াবের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছে।
আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ক্রিকেটারদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে যেন দেশের বেশি সংখ্যক ক্রিকেটার উপকৃত হতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করতে চান।
মোহাম্মদ মিঠুনের মতে, কল্যাণমূলক কার্যক্রম একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তাই যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। গত এক বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ক্রিকেটারদের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
কোয়াব সভাপতি আরও বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ক্রিকেটারদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কোয়াব সভাপতি।
