দেশের ব্যান্ড সংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস বর্তমানে সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থান করছেন। ইতালির ভেনিসে একটি স্টেজ শো শেষ করে তিনি স্টকহোমে পৌঁছেছেন এবং সেখানে আয়োজিত একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এই কনসার্টের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংগীতের বর্তমান ধারা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাব এবং নিজের সংগীত জীবন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বর্তমান সময়ে সংগীত তৈরিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গান তৈরির বিষয়টি বিশ্বজুড়ে সংগীত শিল্পীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জেমস বলেন, নতুন প্রজন্মের অনেক মেধাবী শিল্পী সংগীতে যুক্ত হচ্ছেন, যা ইতিবাচক। তবে প্রযুক্তির অতি ব্যবহারের ফলে সংগীত বর্তমানে অনেক বেশি নিখুঁত বা পারফেক্ট হয়ে উঠছে।
তার মতে, সংগীতের এই অতিরিক্ত নিখুঁত রূপ একসময় শ্রোতাদের কাছে একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারে। জেমস মনে করেন, যখন শ্রোতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সংগীতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, তখন স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত লাইভ মিউজিকের আবেদন আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, লাইভ মিউজিক অনেকটা জীবনের মতো, যেখানে সুরের গতিপ্রকৃতি বা ডায়নামিকস থাকে।
এআই দিয়ে তৈরি সংগীত শুরুতে ভালো লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মানুষের কাছে বোরিং বা একঘেয়ে মনে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, সত্যিকারের মিউজিক বা লাইভ পারফরম্যান্সের আবেদন চিরস্থায়ী এবং এটিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। সংগীতের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত ভাবনা নিয়েও কথা বলেন এই শিল্পী।
তিনি জানান, নিয়মিত কনসার্টের ব্যস্ততার কারণে নতুন গান প্রকাশের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে তিনি নতুন গান নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সংগীত জীবনে একাধিক প্রজন্মের শ্রোতাদের ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জেমস বলেন, মঞ্চে দাঁড়ালে তার মনে হয় তিনি যেন একই শ্রোতাদের সামনে গান করছেন।
সময়ের সাথে প্রজন্মের পরিবর্তন হলেও তিনি তা সেভাবে অনুভব করেন না। তিনি অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে পছন্দ করেন না এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবতে আগ্রহী। সংগীতকে কোনো কিছু অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না জেমস। তার কাছে গান করা একটি প্যাশন বা নেশার বিষয়। তিনি বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় সংগীত চর্চা করা উচিত নয়।
যদি সংগীত থেকে কোনো কিছু অর্জিত নাও হতো, তবুও তিনি সংগীতই করতেন। সংগীত নিয়ে তার কোনো নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। যত দিন সম্ভব তিনি গান করে যেতে চান। এমনকি যদি ভবিষ্যতে মাত্র একজন দর্শকও থাকে, তবুও তিনি গান চালিয়ে যাবেন বলে জানান। এছাড়া নতুন ব্যান্ডগুলোর প্রতিও আগ্রহ দেখানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান জেমস।
তিনি বলেন, নতুন অনেক ব্যান্ড বর্তমানে ভালো কাজ করছে এবং তাদের গান সবার শোনা উচিত। প্রবাসে বাংলা গান ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। জেমস মনে করেন, বিদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে এই ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীরা দেশের সংস্কৃতিকে মিস করেন এবং তাদের মধ্যে দেশের সংস্কৃতির প্রতি টান ও আগ্রহ অনেক বেশি থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্টকহোমের কনসার্ট শেষে জেমসের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
