বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট দল কেন্টের হয়ে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। চার ম্যাচের চুক্তিতে দলে যোগ দেওয়া এই পেসার ২ সেপ্টেম্বর উস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কেন্টের জার্সিতে অভিষেক করবেন। উস্টারশায়ারের পর তিনি ডার্বিশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষেও মাঠে নামবেন। মূলত শরিফুল ইসলামকে দলে পেতে চেয়েছিল কেন্ট, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় সেই সুযোগ তৈরি হয় খালেদ আহমেদের জন্য।
প্রথমবার কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেয়ে খালেদ আহমেদ নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কেন্টের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া তার জন্য আনন্দের। মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের সাফল্যে এবং প্রথম টায়ারে প্রমোশন নিশ্চিত করতে নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কেন্টের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরেক পেসার হাসান মাহমুদের পরামর্শ তাকে সহায়তা করেছে।
হাসান মাহমুদ বর্তমানে কেন্টের হয়ে খেলছেন এবং তিনি ক্লাবটির পরিবেশ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে খালেদকে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছেন। খালেদ আহমেদ বলেন, হাসান এবং তার এজেন্টের কাছ থেকে কেন্ট সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছেন। তিনি ক্লাবটিকে একটি পরিবারের মতো উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে, কেন্টের সমর্থক এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের গর্বিত করতে পারবেন।
কেন্ট কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশি এই পেসারকে দলে পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। কেন্টের ক্রিকেট পরিচালক সাইমন কুক জানিয়েছেন, মৌসুমের শেষ ভাগে দলের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করতে এবং ভারসাম্য বাড়াতে তারা এমন একজন বোলার খুঁজছিলেন। সাইমন কুক আরও বলেন, হাসান মাহমুদের পর খালেদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে কেন্টের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবে।
তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে ক্লাবটির এই সংযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। খালেদ আহমেদ নিজেও মনে করেন, হাসান মাহমুদের যোগদানের পর থেকে বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটপ্রেমী কেন্টের খেলা অনুসরণ করছেন এবং তার আগমনে এই সমর্থন আরও বাড়বে। খালেদ আহমেদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৫ সালে সিলেটের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়।
এখন পর্যন্ত তিনি মোট ৭০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ১৯০টি উইকেট শিকার করেছেন। এর মধ্যে ৯ বার তিনি ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। কাউন্টি ক্রিকেটে তার এই নতুন যাত্রা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্ট দল আশা করছে, খালেদ আহমেদ দ্রুত দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
খালেদ আহমেদের এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের গ্রহণযোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে আছেন কেন্টের সমর্থক এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা।
