এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে ৩-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। দোস্তলিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভারতের আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খায়। ম্যাচের ২৬ মিনিটে প্রথম গোলটি হজম করে বাংলাদেশ। ভারতের মিডফিল্ডার ড্যানি মেইতেই লাইশরাম বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে গোল করেন।
গোলকিপার রাজ চৌধুরীর পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ালে ভারত এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ গোল শোধ করার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভারত। থ্রো-ইন থেকে আসা বল ভারতীয় খেলোয়াড় ব্যাক হেড করলে বিশাল যাদব ব্যাকভলিতে গোল করেন। এই গোলের সময় বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পজিশনিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দুই গোল হজমের পর বাংলাদেশের ডিফেন্ডার মিঠু চৌধুরী হলুদ কার্ড দেখেন। এ সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও রেফারি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভারতের বদলি মিডফিল্ডার মো. আরবাশ আরও একটি গোল করলে ব্যবধান ৩-০ হয়।
এই হারের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের মিশন হতাশাজনকভাবে শেষ করল। এর আগে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ এবং সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কোনো গোল করতে পারেনি এবং রক্ষণভাগে বারবার ভুল করেছে। দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে টুর্নামেন্টের মাঝপথে ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
এরপর ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে আতিকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে শেষ ম্যাচেও দলের পারফরম্যান্সে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতার। কারণ প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে বাংলাদেশ চূড়ান্ত পর্বে ওঠার লড়াই থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল। অন্যদিকে, এই জয়ের ফলে ভারত চূড়ান্ত পর্বে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
বাংলাদেশের আক্রমণভাগে মাহী খান ও উহঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস গোল করার চেষ্টা করলেও ভারতের রক্ষণভাগ তা প্রতিহত করে। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ভুল এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মার্কিংয়ে ব্যর্থতা বড় ব্যবধানে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
কোনো ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারেনি। এই ব্যর্থতা বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাছাইপর্বের তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশ পরাজিত হয়েছে এবং কোনো গোল করতে না পারায় দলের আক্রমণভাগের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত কোচ আতিকুর রহমানের অধীনেও দলের খেলায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
