আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের আসরের জন্য রাজশাহী বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী আব্দুর রাজ্জাক চলতি বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছেন।
লেভেল-৩ কোচিং কোর্স সম্পন্ন করার পর তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেন। এবার জাতীয় লিগের একটি বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তিনি তার কোচিং ক্যারিয়ারের নতুন ধাপে পদার্পণ করছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আব্দুর রাজ্জাক ক্রিকেট প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবার রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটারদের উন্নয়নে কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন মৌসুমে শুধু আব্দুর রাজ্জাকই নন, আরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ব্যাটসম্যান নাজিম উদ্দিন। খুলনা বিভাগের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তুষার ইমরান। সিলেট বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজিন সালেহ। ঢাকা বিভাগের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মিজানুর রহমান বাবুল। এছাড়া গত মৌসুমে রংপুর বিভাগকে চার দিনের আসর এবং টি-টোয়েন্টি—উভয় সংস্করণেই চ্যাম্পিয়ন করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন সাইফুল ইসলাম।
সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার তাকে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের আটটি বিভাগের কোচিং প্যানেলে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি বিভাগই তাদের নিজস্ব কৌশল এবং পরিকল্পনায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছে। আব্দুর রাজ্জাক রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলটির প্রস্তুতি ও কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে কাজ শুরু করবেন।
জাতীয় ক্রিকেট লিগ বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসর হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আসর থেকেই জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই প্রতিটি বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আব্দুর রাজ্জাক তার দীর্ঘদিনের ক্রিকেটীয় জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাজশাহী বিভাগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন।
কোচিং প্যানেলে এই রদবদল আসন্ন মৌসুমের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দলের পারফরম্যান্সের মানোন্নয়নে নতুন কোচরা তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। আব্দুর রাজ্জাকের মতো অভিজ্ঞ একজন সাবেক ক্রিকেটারের কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি রাজশাহী বিভাগের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি তার ক্যারিয়ারে অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সাথে পরিচিত। সেই অভিজ্ঞতা তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন মৌসুম শুরুর আগে প্রতিটি বিভাগই এখন তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কোচিং প্যানেলের এই নতুন বিন্যাস দলগুলোর পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন।
আব্দুর রাজ্জাক এবং অন্যান্য কোচদের জন্য এই দায়িত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের নিজ নিজ দলের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাবেন।
