ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আরলিং হালান্ডের একমাত্র গোলে কভেন্ট্রিকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে দলটি। এই জয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল ম্যানচেস্টার সিটি। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্লাবটি এখন পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই জয়লাভ করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ম্যানচেস্টার সিটি বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে প্রিমিয়ার লিগে সদ্য উন্নীত হওয়া কভেন্ট্রি রক্ষণভাগে বেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আরলিং হালান্ড হেডের মাধ্যমে গোল করে ম্যানচেস্টার সিটিকে এগিয়ে দেন। চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচে এটি তার তৃতীয় গোল।
গোলটি করার পর ম্যানচেস্টার সিটি রক্ষণাত্মক কৌশলে ফিরে আসে এবং ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করে। ম্যাচের শেষ দিকে কভেন্ট্রি সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা বেশ কয়েকটি আক্রমণ পরিচালনা করে ম্যানচেস্টার সিটির রক্ষণভাগের পরীক্ষা নেয়। তবে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার দুটি দুর্দান্ত সেভ ম্যানচেস্টার সিটির জয় নিশ্চিত করে।
এই সেভগুলো না হলে ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ ছিল কভেন্ট্রির। দলবদলের বাজারে ৪৬ কোটি পাউন্ড খরচ করে স্কোয়াডে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ এক দশকের দায়িত্বের পর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে ক্লাবটিতে। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে দলটির খেলার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
যদিও পারফরম্যান্সের দিক থেকে এখনো নিখুঁত নয়, তবে ফলাফল সবসময় তাদের পক্ষেই আসছে। এই ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজকে নিয়ে বিশেষ নাটকীয়তা ছিল। ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে চেলসি থেকে প্রিমিয়ার লিগের রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিয়ে তাকে দলে ভিড়িয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। শুরুতে তাকে বেঞ্চে রাখার পরিকল্পনা থাকলেও ওয়ার্ম-আপের সময় নিকো ও'রেইলি চোট পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে শুরুর একাদশে জায়গা পান এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
এছাড়া এনজো মারেসকা আক্রমণভাগে ইলিমান দিয়ায়েকে অভিষেক করান। তিনি আঁতোয়ান সেমেনিয়ো ও রায়ান শেরকির সঙ্গে মিলে একটি শক্তিশালী আক্রমণভাগ গড়ে তোলেন। কভেন্ট্রির বিপক্ষে এই জয় ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে টানা তিন জয় পাওয়া দলটির জন্য বড় অর্জন।
তবে আগামী ম্যাচগুলোতে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে ম্যানচেস্টার সিটিকে। কোচ এনজো মারেসকা দলের সমন্বয় নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নতুন খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুরনোদের বোঝাপড়া আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। কভেন্ট্রির মতো দলের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয় থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করবে ম্যানচেস্টার সিটি।
দলের প্রধান গোলদাতা আরলিং হালান্ড তার ফর্ম ধরে রেখেছেন, যা ক্লাবের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়। আগামী দিনগুলোতে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
