জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত নামের তরুণের মতো গর্জন করে উঠবে। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, অথচ তাদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিফাত নামের এক তরুণ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলেছিল। সেই তরুণকে গ্রেপ্তার করার পর থানায় নাজেহাল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সিফাতের মুখের ভাষা হয়তো সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু যে বিষয় নিয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, তা দেশের প্রতিটি মানুষের কষ্টের প্রতিচ্ছবি।
তিনি অবিলম্বে সিফাতকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। জামায়াতে ইসলামীর আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সিফাতকে মুক্তি দেওয়া না হয়, তবে এর পরিণাম ভালো হবে না। তিনি অতীতে নূর হোসেন, ইয়াসমিন এবং ডা. মিলনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এসব ঘটনা তৎকালীন শাসকদের গদি উলটপালট করে দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, তা কেউ বলতে পারে না। সরকার যেন এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেয়। ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের মূল লক্ষ্য হলো ৬ দফা দাবি আদায় করা। ডা. শফিকুর রহমান জানান, তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তাদের এই কর্মসূচি ওষুধের মতো কাজ করতে শুরু করেছে এবং এর প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। তিনি লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন এই কর্মসূচির সফলতার জন্য দোয়া করেন। তিনি আরও বলেন, তাদের এই যাত্রা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে এবং তারা তাদের দাবি আদায়ে অবিচল থাকবেন।
সমাবেশ শেষে গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার পর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। লংমার্চের মাধ্যমে তারা তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরতে চান। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ বিলের নামে ভুতুড়ে বিল আদায় করা হচ্ছে এবং পানির সংকটের কথা বললে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সিফাত যে প্রতিবাদ করেছে, তা আসলে দেশের মানুষের মনের কথা। সরকার যদি জনগণের এই ক্ষোভকে গুরুত্ব না দেয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। জামায়াতে ইসলামীর আমির তার বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ দিশেহারা।
তিনি বলেন, তাদের এই লংমার্চ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি সংগ্রাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তাদের এই শান্তিপূর্ণ লংমার্চের মাধ্যমে সরকারের টনক নড়বে এবং তারা জনগণের দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য হবে। লংমার্চটি ঢাকা থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়, যেখানে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বারবার সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, তাদের দল সবসময় জনগণের অধিকারের পক্ষে কাজ করে যাবে এবং কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। লংমার্চের এই যাত্রাপথে তারা সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবেন এবং তাদের দাবিগুলো আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।
