১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে এই লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই লংমার্চের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমেছেন। তিনি তার বক্তব্যে ছয় দফা দাবির পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব আর বরদাশত করা হবে না।
দেশের সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া দুর্নীতিবাজদের কারণে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, জনগণ তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেবে না। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছে এই লংমার্চের সফলতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল সোয়া ৮টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এই লংমার্চ কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বক্তারা তাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা দাবি করেন যে, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে এই লংমার্চ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
লংমার্চটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে এবং দাবিগুলো সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা এই লংমার্চে যোগ দিয়ে তাদের সংহতি প্রকাশ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লংমার্চ কর্মসূচি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই কঠোর অবস্থান জনমনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লংমার্চের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে আয়োজকরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মতিঝিল থেকে শুরু হওয়া এই লংমার্চটি চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা অতিক্রম করবে।
প্রতিটি স্থানেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। ছয় দফা দাবি আদায়ের এই আন্দোলন কতদূর পর্যন্ত গড়াবে এবং সরকার এই দাবির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে সক্রিয় থাকবেন।
লংমার্চের এই যাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তারা সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
