দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বৃহস্পতিবার এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই তিন শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা ৯৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
তবে একই সময়ে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের প্রাদুর্ভাবের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জন এবং সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৬৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬২৭ জন। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি, যেখানে মোট ৬২ জন মারা গেছে।
এছাড়া বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সিলেটে ১৫২ জন, রাজশাহীতে ৯২ জন, ময়মনসিংহে ৭৫ জন, চট্টগ্রামে ৬৪ জন, বরিশালে ৫৬ জন, খুলনায় ৩৪ জন এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হামের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। হাম একটি সংক্রামক রোগ যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে জ্বর এবং লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে এই রোগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। গত কয়েক মাসে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সরকারিভাবে হামের টিকা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে প্রতিদিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হচ্ছে। হামের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সফল করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
