সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের প্রবণতা অত্যন্ত কম। তিনি উল্লেখ করেন যে, চালকরা সাধারণত তখনই হেলমেট ব্যবহার করেন যখন তারা পুলিশি চেকপোস্টের মুখোমুখি হন, অন্যথায় হেলমেট ব্যবহারের বিষয়টি তাদের মধ্যে দেখা যায় না।
শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ দিনাজপুর সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি জানান, দিনাজপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং শুক্রবারও একজন ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, যার মাথায় হেলমেট ছিল না। মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশে এর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর পেছনে তিনি অতিরিক্ত জনসংখ্যা, যানবাহনের আধিক্য, সরু রাস্তা এবং জনসচেতনতার অভাবকে দায়ী করেন।
তিনি অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, এসএসসি পাস করার পরপরই সন্তানদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ তারা হেলমেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যদি দুর্ঘটনা না কমে তবে তা আমাদের প্রশাসনিক ও সামাজিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন দুর্ঘটনার পর কেবল খবর প্রকাশ না করে নিয়মিত ফলোআপ প্রতিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি এবং সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. মোছা.
সাদরাতুন মুমতাহিনা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৫৪(১) ধারা অনুযায়ী গঠিত বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে দিনাজপুর সার্কেলের মোট ৭৩ জন ক্ষতিগ্রস্তকে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬৫ জনের পরিবারকে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং আহত ৮ জনকে ১৪ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।
মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন দিনাজপুর-৬ আসনের সাতজন ব্যক্তি দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর। তিনি এই ধরনের সহায়তা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং হেলমেট ব্যবহারে চালকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
