জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির সম্পৃক্ততা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। গত ২৯ আগস্ট ভোরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে পড়ে রনজিলা পারভিন নিহত হন।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিন চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে নেমে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তাঁর ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিলে তিনি রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব মোশাররফ হোসেন পনি ওরফে প্যারা পনি, সেড্রিক জুলিয়ান এবং মোটরসাইকেলের মালিক মো. রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। আদালত আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং ইতিমধ্যে তিন দিন অতিবাহিত হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাঁদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি এখনো প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া, ঘটনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে নীল রঙের মোটরসাইকেল দেখা গেলেও র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের রং রুপালি ও কালো। এই অসামঞ্জস্যতা নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. শাহিন জানিয়েছেন, কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন ভুলভাবে সাজা না পান, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং মোটরসাইকেলের রঙের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, নিহতের স্বামী আবদুল মতিন জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর ব্যাগে দুটি মুঠোফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ছিল। র্যাব গ্রেপ্তারের সময় লিনো ক্যানন ও রিয়েলমি ব্র্যান্ডের দুটি স্মার্টফোন উদ্ধারের কথা জানালেও, বাদী দাবি করেছেন এগুলো তাঁর স্ত্রীর নয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রনজিলা পারভিনের ছিনতাই হওয়া মালামাল এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের চালকদের সাথে মিল থাকায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তাঁদের সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মোশাররফ হোসেন পনির বিরুদ্ধে রাজধানী ও এর বাইরে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। তবে সেড্রিক জুলিয়ান ও রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে বড় কোনো মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সেড্রিক মাদকাসক্ত থাকলেও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে তাঁর জড়িত থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে বিস্ময়কর। রাকিব হোসেন তেজগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজে কাজ করতেন এবং তাঁর গ্যারেজ থেকেই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আসামিরা এখনো দায় স্বীকার করেননি, ফলে মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে সময় লাগছে। পুলিশ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে এবং অস্পষ্টতা দূর করার চেষ্টা করছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
