সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এই নোটিশে নাটক-সিনেমার প্রদর্শনী, কনসার্ট, বাউল গান, লোকসংগীত এবং নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও প্রদর্শনীতে শিল্পী ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি নিজেই এই নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে অনুরোধ করা হয়েছে যে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমানে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে।
নোটিশটি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না তা জানাতে বলা হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উত্তর বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে এই বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৭ এবং ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, এই মৌলিক অধিকারগুলো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়া উচিত।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাধা এবং আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠান স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির মতো ঘটনাও ঘটেছে।
উদাহরণ হিসেবে নোটিশে কিশোরগঞ্জে একটি কনসার্ট স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর আপত্তির পর প্রশাসনিকভাবে বাতিল করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সিলেটের বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ওঠার বিষয়টিও নোটিশে এবং ঢাকার একটি কনসার্টে শিল্পী অনুপম রায়ের অনুষ্ঠানটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনাগুলো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সাথে আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকারের মধ্যে একটি ভারসাম্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপের কারণে আইনসম্মত এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলো বেআইনিভাবে বন্ধ করা উচিত হবে না।
নাটক, বাউল গান, লোকসংগীত, পালাগান, যাত্রা, লোকনৃত্য এবং নৌকাবাইচ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এবং ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের হুমকি, হামলা, অপমান, হয়রানি কিংবা জোরপূর্বক অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টা হলে তাদের যথাযথ আইনগত সুরক্ষা প্রদান করতে হবে।
