সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় নিজ ঘর থেকে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার চার বছর বয়সী শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা ও শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী রতন দাশের স্ত্রী চম্পা রাণী দাশ এবং তাদের চার বছরের মেয়ে হৃদি দাশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে চম্পা রাণী দাশ ও তার মেয়েকে ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী জানান, নিহত চম্পা রাণী দাশ অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে তিনি এবং তার শিশুসন্তান এমন পরিস্থিতির শিকার হলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর সকালে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাতেই মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা কোথায় ছিলেন বা কী পরিস্থিতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটল, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তারা স্থানীয়দের সাথে কথা বলছেন এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি জকিগঞ্জ থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করছে।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। জকিগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে যাতে কোনো তথ্যই বাদ না পড়ে।
এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
