সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। ঢাকায় অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ফরেন এইড অফিসের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্রের প্যাকেজ বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, সিলেটের ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলায় ১ হাজার ৫০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ডিরেক্টর অব ফরেন এইড রাশেদ মোহাম্মদ নাসের আলমেইল আলজাবি উপস্থিত ছিলেন। ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণ করা এবং তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করাই এই সহায়তা কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, জীবিকা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো এবং তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের এই মানবিক সহায়তা বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার করেছে, এই ত্রাণ বিতরণ তারই একটি অংশ। এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য ও বস্ত্রের প্যাকেজগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের বর্তমান সংকটময় সময়ে কিছুটা হলেও সহায়তা করবে।
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ফরেন এইড অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই সহায়তা কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত। দেশের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোট ১০ হাজার পরিবারকে এই সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
সিলেটের ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারকে সহায়তার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হলো। বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এই ধরনের সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঘরবাড়ি হারানো এবং জীবিকা সংকটে পড়া মানুষগুলো এই ত্রাণ পাওয়ার ফলে তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা মেটাতে সক্ষম হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগটি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতাকেও প্রকাশ করে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর এই ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সিলেটে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
