সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে ছয়জন সাব ডিলারের সার বরাদ্দ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। রোববার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে কমিটি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। বরাদ্দ স্থগিত হওয়া ছয়জন সাব ডিলার হলেন ধুবিল ইউনিয়নের আফসার আলী তালুকদার, মমতাজ উদ্দিন, বানসা রাম, জাহিদুল ইসলাম, ব্রম্মগাছা ইউনিয়নের আব্দুল মমিন এবং ধানগড়া ইউনিয়নের সুমন আহমেদ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সার বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে তাদের ডিলারশিপের বরাদ্দ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের সার উত্তোলন বা বিক্রয় করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই ছয়জন সাব ডিলারের আওতাধীন এলাকায় সার সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, যেসব কৃষকরা এতদিন এই সাব ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করতেন, তাদের এখন থেকে নিজ নিজ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করতে হবে। এতে কৃষকদের সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে এবং তারা নির্ধারিত সরকারি মূল্যেই সার কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সার বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজি সহ্য করা হবে না। মাঠ পর্যায়ে সার বিক্রির কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো ডিলার বা সাব ডিলার যদি একই ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ডিলারদের অবশ্যই সরকার নির্ধারিত মূল্যের তালিকা দোকানের সামনে প্রদর্শন করতে হয় এবং কৃষকদের কাছে সেই মূল্যেই সার বিক্রি করতে হয়। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল যে, উল্লিখিত সাব ডিলাররা সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছিলেন, যা কৃষকদের উৎপাদন খরচের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সারের দাম বেশি নেওয়ার কারণে তাদের চাষাবাদে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছিল। এখন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে তারা নির্ধারিত মূল্যে সার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে মূল ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো উপজেলায় সার বিক্রির বাজারে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। কোনো ডিলার যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দাবি করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযোগ জানানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ফলে সার ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে অনিয়মের প্রবণতা কমে আসবে। সিরাজগঞ্জ জেলায় কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং সারের কৃত্রিম সংকট রোধে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
