সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বিএনপি। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে।
তদন্ত টিমের সদস্য এবং জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর সেখানে উপস্থিত থাকা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজারে। ওইদিন সেখানে সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা টিটিসি স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সভা থেকে বেরিয়ে আসার সময় সংসদ সদস্য আয়নুল হকের ওপর হামলা ও তার গাড়ির পেছনের অংশ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় এমপি আয়নুল হক ব্যক্তিগতভাবে অক্ষত থাকলেও তার ব্যবহৃত গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার পর ওইদিন রাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে তমাল সরকারকে নাম করা হয়েছে এবং তার সাথে আরও ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তমাল সরকারকে প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ও রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদির, হোটেল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন এবং মৃত সিরাজ সরকারের ছেলে তমালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলার গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গোলাম মুক্তাদির এবং আলমগীর হোসেন বর্তমানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
তবে প্রধান আসামি তমাল সরকার এখনো বন্দি রয়েছেন।
হামলার আট দিন পর ২৪ আগস্ট দুপুরে জেলা বিএনপি একটি ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সদস্য সচিব হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ভিপি শামীম খানকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ সুইট, দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ, এবং সহ-প্রচার সম্পাদক রেজাউল করিম খান। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এম দুলাল উদ্দিন আহমেদ, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলামিন খান, সাধারণ সম্পাদক মুরাদুজ্জামান মুরাদ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলর সদস্য সচিব মিলন হক রঞ্জু।
এই তদন্তের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্ব এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায়। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার করার চেষ্টা করা হয়েছে।
