বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন যে সরকার জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে ক্ষমতার মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হয়, তবে সরকারকে টেনে নামাতে তাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না। শনিবার সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লংমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই কথাগুলো বলেন।
এই লংমার্চ কর্মসূচিটি ছিল ১১ দলীয় ঐক্যের একটি যৌথ উদ্যোগ। শনিবার সকালে এই কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের সূচনা হয়। মাওলানা মামুনুল হক এই সমাবেশে তার বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করে বলেন যে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হয়, তবে তারা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে প্রস্তুত।
একই সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন যে সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে এবং জনগণকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি অনুযায়ী, সরকারকে এখন সংসদে এই ভুলগুলো স্বীকার করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব. ) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও তাদের বক্তব্যে সরকারের সমালোচনা করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
সবগুলো বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়। এই লংমার্চের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের বিরুদ্ধে তাদের দাবিদাওয়া জানানো এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। ১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা এবং সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন।
সামগ্রিকভাবে, এই সমাবেশের মাধ্যমে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সরকারের প্রতি তাদের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন যে বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং সংবিধানের পরিবর্তন প্রয়োজন। মাওলানা মামুনুল হক এবং মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতো শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে তারা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
এই লংমার্চের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত করার আহ্বান জানান এবং সরকারের প্রতি তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
