শিক্ষা দিবস উপলক্ষে সারা দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষককে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রথম স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বিগত সময়ে সরকার ১২ জন শিক্ষককে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা সম্মাননা প্রদান করত। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, তাদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে চায়।
এই লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবেই সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান, তাদের পুরস্কৃত করা এবং উৎসাহিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহের প্রতিফলন। সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। নীতিমালা চূড়ান্ত করার সময় গুণী শিক্ষক সম্মাননার সংখ্যা আরও বাড়ানো যায় কি না, অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা শিক্ষকদের মানোন্নয়ন এবং তাদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শিক্ষকদের কাজের মূল্যায়ন করার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এই সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে শিক্ষকদের নির্বাচন করা হবে, তা পরবর্তী সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশের শিক্ষকদের মধ্যে কাজের উৎসাহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই কার্যক্রমটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করা হতে পারে।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যার মধ্যে এই সম্মাননা প্রদান অন্যতম। সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে দেশের শিক্ষা খাতে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই স্টিয়ারিং কমিটির পরবর্তী সভায় সম্মাননা প্রদানের তারিখ এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
