সাভারে ১৪ বছর বয়সী সৎ মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে আজহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধামরাই থানায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা খান বৃহস্পতিবার দুপুরে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা পেশায় একজন রাঁধুনি। সাত বছর আগে আজহারুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। আগের সংসারের দুই মেয়েকে নিয়ে তারা সাভারের ধামরাই এলাকায় বসবাস করতেন। গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে আজহারুল কৌশলে তার দুই সৎ মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেন।
ওষুধ সেবনের পর দুই বোন আলাদা কক্ষে অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত চারটার দিকে আজহারুল তার স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন এবং মুখে কসটেপ লাগিয়ে দেন। এরপর তিনি বড় মেয়ের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ছোট মেয়ে মায়ের হাতের বাঁধন খুলে দিলে তিনি বড় মেয়েকে উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী তার মাকে জানায় যে, এর আগেও একাধিকবার সৎ বাবা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছেন। এই ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বুধবার সন্ধ্যায় আজহারুল বাসায় ফিরলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আজহারুলকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে থানায় নিয়ে আসা হয়। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা খান জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় ধর্ষণের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।
অভিযুক্ত আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পুলিশ মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন রাতে আজহারুল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করার চেষ্টা করেন।
তিনি তার স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ফেলার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি করেন। পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে অভিযুক্ত আজহারুল ইসলাম পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হবে। আইন অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
