বাংলাদেশ বিমানবাহিনী যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, বীর উত্তম এবং স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হকের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সব ঘাঁটি ও ইউনিটের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই দোয়া মাহফিলে এয়ার ভাইস মার্শাল খাদেমুল বাশার ও স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া মাহফিলে বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিমানসেনা এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারে মরহুমদের কবরে ফাতেহা পাঠের আয়োজন করা হয়। সেখানে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীরত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠনে তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে বিমানবাহিনী।
১৯৭৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার শাহাদাতবরণ করেন। একই দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হকও মৃত্যুবরণ করেন। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দিবসটি পালনের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর বর্তমান সদস্যরা তাদের পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের আদর্শকে নতুন করে স্মরণ করেছেন।
বিমানবাহিনীর প্রতিটি ঘাঁটিতে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে তাদের কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করা হয়। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে খাদেমুল বাশারের নেতৃত্ব এবং বিমানবাহিনীকে একটি সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার দূরদর্শী ভূমিকার কথা আলোচনা করা হয়। স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হকের অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই দুই বীরের আত্মত্যাগ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এই দোয়া মাহফিল ও ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিমানবাহিনীর সকল স্তরের সদস্য এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
দেশের আকাশসীমা রক্ষা এবং বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে তাদের যে অবদান রয়েছে, তা আজও বিমানবাহিনীর ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর এই দুই বীরের স্মরণে বিমানবাহিনী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিমানবাহিনীর সকল ঘাঁটি ও ইউনিটে তাদের স্মরণে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
তাদের কর্মজীবন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের বিমানসেনাদের মাঝে তুলে ধরাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, খাদেমুল বাশার ছিলেন একজন সাহসী যোদ্ধা এবং দক্ষ সংগঠক। তার নেতৃত্ব বিমানবাহিনীকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে সাহায্য করেছিল। স্কোয়াড্রন লিডার মফিজুল হকও তার কর্মদক্ষতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর ইতিহাসে নিজের নাম উজ্জ্বল করে রেখেছেন।
বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুই বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে বিমানবাহিনী তাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
