যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া এবং দুদকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আসিফ মাহমুদ। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, দুদকের মুখপাত্র আক্তারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন যে, দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এই বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আসিফ মাহমুদের ভাষ্যমতে, অনুসন্ধান প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই এ ধরনের মন্তব্য তার ব্যক্তিগত সম্মানহানি করেছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে দুদকের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন রেখেছেন যে, তার মানহানি করার জন্য দুদক কোনো দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে কি না। দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
এই টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালাম। আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে তারা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম-সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। দুদকের কাছে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ মাহমুদ বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন করে পদায়ন আদেশ করিয়ে ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতি দিয়ে পছন্দের জায়গায় পদায়ন করার বিনিময়ে সর্বমোট দুই কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়েছে, সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম-সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ, ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নাকিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই) ও আলী হোসেনদের (নরসিংদী) সমন্বয়ে একটি চক্র গড়ে উঠেছিল।
এই চক্রটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সব ধরনের টেন্ডারবাজি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে এই অনুসন্ধান কার্যক্রমের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে আনা মানহানির অভিযোগ এবং দুদকের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে দুদক তার গঠিত অনুসন্ধান টিমের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়ে দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য এবং পরবর্তীতে তা সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে আসিফ মাহমুদ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
আইন অনুযায়ী এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কতদূর অগ্রসর হবে এবং শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল বেরিয়ে আসবে, তা এখন দেখার বিষয়। সরকারি দপ্তরে নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত এই দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুদক তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
