বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন নেই এবং দেশের সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জন্মাষ্টমী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপনকারী ভূখণ্ড। এই দেশে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি অনুকরণীয় রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। আসলাম চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, সীতাকুণ্ডে অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।
এই তীর্থস্থানটি কেবল দেশের মানুষের কাছেই নয়, বরং প্রতিবেশী দেশের মানুষের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, এই অঞ্চলকে আরও আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সীতাকুণ্ডে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন এবং তিনি নিয়মিত সীতাকুণ্ডের প্রতিটি এলাকার খোঁজখবর রাখেন।
জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এই পবিত্র দিনে আমাদের প্রত্যাশা হলো দেশ থেকে সব ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ চিরতরে দূর হোক। মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও গভীর ও শক্তিশালী হোক। প্রতিটি ধর্মের মানুষ যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল প্রত্যাশা।
সীতাকুণ্ড উপজেলা শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কুমার নাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুনন্দ ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণব্রতানন্দ মহারাজ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সীতাকুণ্ড মঠ ও মিশনের স্বামী হরিকৃপানন্দ মহারাজ, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর, যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুরু, সালামত উল্ল্যাহ, সদস্য সচিব মোরছালিন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব সালেহ আহমেদ সলু, জিতেন্দ্র নারায়ণ দাশ নাটু, মো. বখতিয়ার উদ্দিন, জুয়েল চক্রবর্তী, মিঠুন বৈষ্ণব, সীমা নাথ, অমলেন্দু কনক, মনোজ কুমার নাথ, ঝুলন কান্তি রায়, রূপন দে, গোপাল শর্মা, বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী, পূজন দে, নন্দন চক্রবর্তী, মোহন পাল, কাকন দাশ এবং পাবন কৃষ্ণ দাশ।
বক্তারা সবাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মনে করেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো পালনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়, যা একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সীতাকুণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধর্মীয় ও পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সভায় আলোচনা করা হয়।
পরিশেষে, সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
