অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে তার দরজা সবসময় খোলা রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং এজন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকার সমাধানের জন্য কাজ করবে। অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ধর্মের জন্য নয়, বরং দেশের সব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব ধর্মের মানুষের ভোটের মাধ্যমেই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই সরকার সব গোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিগত সময়ে সমাজে যে বিভেদ তৈরি করা হয়েছিল, তা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, সরকার সব গোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় রেখেই নীতিমালা প্রণয়ন করছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, মসজিদের ইমামদের মতো মন্দিরের পুরোহিতদেরও সমান অনুদান দেওয়া হচ্ছে, যা আগে বাংলাদেশে দেখা যায়নি। মন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের কখনো দুর্বল বা অন্যদের থেকে আলাদা মনে করার প্রয়োজন নেই। তিনি এমন একটি দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে সব মানুষ নিজ নিজ উৎসব পালন করবে এবং সমঅধিকার ভোগ করবে।
কাউকে ছোট করে দেখা বা কারও জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। বাজেট প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সবার জন্য প্রণীত বাজেট সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা। বড় বাজেট নিয়ে অনেকের মনে সংশয় থাকলেও সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি বঞ্চনামুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চন্দন তালুকদার। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শ্রীশ্রী কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হরিশ কুমার এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রুপন ধর ও উত্তম কুমার চক্রবর্তী।
এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদানের পাশাপাশি টেলিভিশন ও বেতারের শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে শনি ও রোববার দুই দিনব্যাপী ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে জেএম সেন হলের আশপাশে বিভিন্ন লোকজ সামগ্রীর দোকান বসেছে।
