নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন যে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যে ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্বাচনের সময় বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা প্রশাসনিকভাবে বেশ কঠিন। তাই ব্যয় সংকোচন নীতির বিষয়টি মাথায় রেখে ধাপে ধাপে এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় সেই সময় বাদ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
কারণ বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থিত এবং শিক্ষকরাই ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভোটার স্থানান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ। অনেকে এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করলেও এটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হয় না। ভোটার স্থানান্তরের জন্য কমিশন একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
উপ-নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, কমিশন আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট ভোটিং পদ্ধতিকে আরও জনবান্ধব ও সহজতর করার লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে একটি রাজনৈতিক দলের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ সেই নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে কমিশন মনে করে। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছে। সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন তার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তফসিল ঘোষণার সময় আরও স্পষ্টভাবে জানানো হবে।
