সংগীতশিল্পী তামিম ইসলাম দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংগীত চর্চার মাধ্যমে নিজেকে একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি আগ্রহ থাকা তামিম ইসলাম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ছায়ানট থেকে নজরুলসংগীতে প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে সংগীতকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
তার সংগীত জীবনের এই যাত্রায় মায়ের অবদানকে তিনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০১৪ সালে ‘কেন’ শিরোনামের মৌলিক গানের মাধ্যমে তার সংগীত ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালে সিডি চয়েস মিউজিক থেকে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘তামিম’ প্রকাশিত হয়। এখন পর্যন্ত নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল এবং বিভিন্ন অডিও কোম্পানির ব্যানারে তার ৭০টিরও বেশি মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে।
তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘ইশারায়’, ‘তুই আমার’, ‘নিস্তব্ধতা’, ‘উড়ু উড়ু মন’, ‘মিশে আছি দুজনেই’, ‘বৃষ্টি ঝড়ে’ এবং ‘লড়ে যাও বাংলাদেশ’। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি তিনি সুর ও সংগীত পরিচালনার কাজও নিয়মিত করছেন। তিনি জানান, একজন শিল্পী যখন নিজেই সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন, তখন তাকে অধিক সৃজনশীল, ধৈর্যশীল এবং বিনয়ী হতে হয়।
এই বহুমুখী চর্চা তাকে শিল্পী হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করছে। বর্তমানে তিনি সংগীতের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তার ব্যস্ততার বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে এই দুই পেশার সমন্বয়। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে তিনি দেশের জনপ্রিয় বেশ কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কনা, অবন্তী সিথী, নিশ্চুপ বৃষ্টি, ঝিলিক, নদী, আতিয়া আনিসা, সেনিজ এবং ইয়াসমিন লাবণ্য উল্লেখযোগ্য।
সামনে তার আরও বেশ কিছু নতুন কাজ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে অবন্তী সিথীর সঙ্গে ‘প্রিয় কবিতা’, আদিবার সঙ্গে ‘ভাঙা মন’ এবং মিলানার সঙ্গে ‘ও তুই তুই রে’ গানগুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি প্রথমবারের মতো হিন্দি ভাষায় একটি গান তৈরি করছেন, যার একটি বাংলা সংস্করণও থাকবে।
বর্তমান সময়ের সংগীত নিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে অনেকেই অসাধারণ কাজ করছেন। তিনি ইমরান মাহমুদুল, অয়ন চাকলাদার, প্রীতম হাসান ও সঞ্জয় দেবের কাজের প্রশংসা করেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে মাহতিম সাকিব, এঞ্জেল নূর ও ঈশান মজুমদারের কণ্ঠ তাকে মুগ্ধ করে। ব্যক্তিগত পছন্দের শিল্পীদের তালিকায় তিনি অবন্তী সিথী, নিশ্চুপ বৃষ্টি, মারুফা তৃষা, আদিবা, সাজিদ মোহাম্মদ ও রাজ বর্মণের নাম উল্লেখ করেছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তামিম ইসলাম জানান, তিনি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। এছাড়া কলকাতা ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও রয়েছে তার। সংগীতকে তিনি নিজের প্রশান্তির ঠিকানা হিসেবে অভিহিত করেন এবং সততার সঙ্গে দীর্ঘ সময় গান করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তার বেড়ে ওঠা ঢাকার ধানমন্ডিতে হলেও তার পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সংগীতের প্রতি তার এই একাগ্রতা এবং নিয়মিত নতুন কাজ উপহার দেওয়ার প্রচেষ্টা তাকে সংগীত অঙ্গনে সক্রিয় রেখেছে।
