প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে হবে এবং দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্টজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ বা বৈষম্য সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের যুগে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু পরিচয় মুখ্য নয়। ইউরোপ বা আমেরিকায় গেলে সবাই বাংলাদেশি হিসেবেই পরিচিত হন। তাই সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় হওয়া উচিত বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী, সব নাগরিকের পরিচয় হবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে নিজ নিজ সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি।
এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে রাষ্ট্র তার সাধ্য অনুযায়ী সব নাগরিককে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে এবং নাগরিকেরা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
এভাবেই রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এবং ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।
জন্মাষ্টমীর উৎসবের পাশাপাশি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সব উৎসব মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে পালন করতে পারবে। তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে দেশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর গণতন্ত্রকামী জনগণ ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়ে দেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, এই দেশ সবার এবং নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। সমাজে কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সবশেষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানান এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ যেন দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি পুনরায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
