হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি যাত্রীবিহীন উড়োজাহাজের ভেতর থেকে প্রায় ৯ দশমিক ৩৩ কেজি ওজনের ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস হাউস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার হওয়া এই সোনার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ২ সেপ্টেম্বর রাতে। এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, ওইদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে অবতরণ করা ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটে সোনা চোরাচালান করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা দ্রুত উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি চালানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। তল্লাশির সময় উড়োজাহাজটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতিতে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে উড়োজাহাজটিতে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে উড়োজাহাজের একটি আসনের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় কয়েকটি প্যাকেট পাওয়া যায়। কাস্টমস হলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো খোলা হলে সেখানে মোট ৮০টি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি সোনার বারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম হিসেবে মোট সোনার ওজন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার করা সোনার বারগুলোর কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কৌশলে উড়োজাহাজের আসনের নিচে এই সোনাগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে এসব সোনা পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্ধার করা সোনার বারগুলো অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা রাখা হয়েছে। প্রচলিত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী, মূল্যবান ধাতু হিসেবে এই সোনার বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা দেওয়ার কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চোরাচালানের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানা গেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি এ ধরনের চোরাচালান রোধে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখছে। উদ্ধার হওয়া সোনার বারগুলোর উৎস এবং গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আইন অনুযায়ী এই সোনার বারগুলো বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চোরাচালানকারীদের শনাক্ত করার জন্য উড়োজাহাজের যাত্রী তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিমানবন্দরের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
উদ্ধার হওয়া সোনার বারগুলো বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কাস্টমস গুদামে সংরক্ষিত আছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনাটি বিমানবন্দর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
