শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে ডলফিনের মতো দেখতে একটি প্রাণীর লাফানোর দৃশ্য সম্বলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি রোববার সকাল থেকে ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শরীয়তপুর শহরের পার্শ্ববর্তী মুন্সিরহাট এলাকার কীর্তিনাশা নদীতে ডলফিনসদৃশ প্রাণীটি লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে প্রাণীটিকে কমপক্ষে চারবার লাফাতে দেখা গেছে।
তবে ভিডিওটি কে বা কারা ধারণ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সালাউদ্দিন রূপম জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, খালি চোখে ভিডিওটি দেখে এটি আসল নাকি নকল তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, কীর্তিনাশা নদীতে মাঝেমধ্যে শুশুক দেখা যায়। এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পানির উচ্চতা তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ছোট আকারের ডলফিন পানির স্রোতের সঙ্গে কীর্তিনাশা নদীতে চলে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেবের মতে, ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হতে পারে, যাকে সাধারণ ভাষায় ডিপ ফেক বলা হয়।
তিনি এর কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন যে, ডলফিনটি একবার লাফ দিয়ে পানিতে ডুব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার লাফিয়ে উঠছে, যা স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এটি কোনো ডিজিটাল কারসাজি কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা চলছে। কীর্তিনাশা নদীতে ডলফিনের উপস্থিতি বা এর সদৃশ প্রাণীর বিচরণ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল দেখা গেছে।
তবে এবার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নদীর বাস্তুসংস্থান এবং জলজ প্রাণীর বিচরণ নিয়ে সচেতন মহলে নানা মত রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। তবে এই নির্দিষ্ট ভিডিওটির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত কারসাজির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভিডিওটি আসল নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বা মৎস্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিওটি পরীক্ষা করার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
কেউ কেউ এটিকে প্রকৃত ঘটনা হিসেবে দাবি করছেন, আবার অনেকে এটিকে প্রযুক্তিগত কারসাজি বলে মনে করছেন। নদীর পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় এই ধরনের ঘটনার সত্যতা নিরূপণ করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়নি।
