শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দিনের আলোতে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর সকালে শরীয়তপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের কোটাপাড়া ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আয়োজিত এই মিছিলে অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলের দৃশ্য সম্বলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির শরীয়তপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মহসিন মাদবর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান ওরফে ভুলু এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শিকদারের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে মিছিল করছেন। দিনের আলোতে আয়োজিত এই মিছিলের সময় পাশ দিয়ে অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।
মিছিলের কারণে সড়কের যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং একটি ট্রাককে পেছনে আটকে থাকতে দেখা যায়। মিছিল চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান উচ্চারণ করেন। এদিকে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এমন মিছিলের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে কোনো পূর্ব তথ্য ছিল না বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, মিছিলের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো আগাম তথ্য ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মিছিলটি যে স্থানে হয়েছে সেটি পালং ও নড়িয়া থানার সীমান্তবর্তী এলাকা। এই ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে এসে মিছিল করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় জনবহুল সড়কে মিছিল করার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মিছিলের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আইন অমান্য করে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে শরীয়তপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্যস্ততম এলাকায় এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন।
মিছিলের ভিডিওতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করছেন এবং সরকারবিরোধী ও দলীয় বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের তৎপরতা রোধে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে টহল জোরদার করা হবে বলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে এবং জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে এবং ঘটনার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।
