রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এ শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বা বিল্স আয়োজিত ১০ম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা শ্রমিকদের মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন যে, ন্যায্য মজুরি কোনো দাবি নয়, বরং এটি প্রতিটি শ্রমিকের নাগরিক অধিকারের অংশ।
শ্রমিকদের প্রাপ্য মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নে নারী নেতৃত্ব এবং তরুণ শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে, কর্মজগতের নিরাপত্তা এবং একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
শ্রমজগতের সামগ্রিক উন্নতির জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি জানান। এছাড়া তিনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং মজুরি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে, ন্যায্য মজুরি কোনো দাবির বিষয় নয়, বরং এটি নাগরিক অধিকারের অংশ। তিনি আরও জানান যে, সাড়ে সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষের নির্বাচিত সরকার এই অধিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
ড. মাহদী আমিন কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ, শোভন কাজ এবং প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির কথা বলেন। তিনি শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা, আস্থা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালিক-শ্রমিকের ঐক্যের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় শ্রমিক শ্রেণির অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, দেশের সব সেক্টরের শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে।
মন্ডিয়াল এফএনভির পলিসি অ্যাডভাইজার রুবেন কোরেভার বাংলাদেশের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে নারী নেতৃত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিটিডিএ’র এশিয়া অফিসের হেড লটে এলিগার্ড ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এবং সামাজিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, কার্যকর সামাজিক সংলাপের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং ঐক্য নিশ্চিত করা জরুরি।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর জান্না ভ্যান ডার লিন্ডেন বলেন যে, শ্রমিক শ্রেণি যখন নিজেদের ভাষায় দরকষাকষি, আলোচনা এবং সংলাপে অংশগ্রহণ করবে, তখনই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা সামগ্রিকভাবে শ্রমিকের মর্যাদা, অধিকার এবং ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর সামাজিক সংলাপ, মালিক-শ্রমিকের ঐক্য এবং দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রমবাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন।
