আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৯ জন পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল এই আসামিদের দ্রুত আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সংক্রান্ত বিশেষ শুনানির পর এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই ঘটনায় মোট ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
বৃহস্পতিবারের শুনানির আগে এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া হিসেবেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট এই মামলার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই শুনানির ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি প্রদান করেন। শাপলা চত্বরের ওই ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে একটি আলোচিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। হেফাজতে ইসলামের ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।
বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের ফলে পলাতক আসামিদের আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আদালতে হাজির করা ১০ আসামির উপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের বিষয়টি অবহিত করা হবে। এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে। শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দায়ের করা এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এবং আসামিদের উপস্থিতির বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবেন। রাষ্ট্রপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছেন। ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য থাকায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ওই দিন আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের এই আদেশটি মামলার বর্তমান পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
