শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা ছাড়া জাতি গঠন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশ আয়োজিত ‘যৌথ উদ্যোগে বইপড়া কর্মসূচির ১২ বছর’ পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তবেই একটি উন্নত জাতি গঠন করা সম্ভব। নিজের অতীত দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতেও তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফলাফল প্রকাশের আগে বিভিন্ন মহল থেকে তা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। অনেকে ফলাফল ভালো দেখানোর জন্য নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন যে এবারের ফলাফল আশানুরূপ নাও হতে পারে।
তখন প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, যা হওয়ার তাই হয়েছে এবং যে যে কাজের জন্য যে প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য, তাকে সেটাই দেওয়া উচিত। শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য শিক্ষায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা ভাবনার প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার আনন্দময় শিক্ষার পাশাপাশি বই পড়া ও খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলার জন্য কারিগরি শিক্ষার ওপরও সরকার জোর দিচ্ছে বলে তিনি জানান। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে বই বিতরণ, মিড-ডে মিল এবং স্কুল ড্রেসের মতো উদ্যোগগুলো চলমান রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি জানান, শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত আলোচনা করেন এবং শিক্ষা যে জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি, তা তিনি বারবার স্মরণ করিয়ে দেন। শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম শিশুদের সৃজনশীল কাজে উদ্বুদ্ধ করবে।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন। তিনি তার দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও মানুষের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে সরকারের বাইরে বিকাশ যে বড় ধরনের সহযোগিতা করেছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই এবং এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
