ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন। গত বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
আরমান হোসেন জানান, গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (অ্যাডমিন) এবং স্পোর্টস বোর্ডের সভাপতি তাকে জানিয়েছেন যে, স্পোর্টস বোর্ডের সদস্যদের নাম সিন্ডিকেটে অনুমোদিত হয়েছে। সেই অনুমোদনের ভিত্তিতেই অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনকে ক্রীড়া কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে অতীতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ার বিষয়ে সমালোচনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত একজন শিক্ষককে ক্রীড়া কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রশ্নবিদ্ধ বলে তিনি মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্য একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।
আরমান হোসেনের মতে, কোনো কমিটিতে দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা সাম্প্রতিক অভিযোগ ও ঘটনাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সিন্ডিকেট সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস কমিটি থেকে অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে এই ধরনের বিতর্কিত নিয়োগ থেকে বিরত থাকা জরুরি। এই নিয়োগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এর আগেও প্রভোস্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের দাবি উঠেছিল, কিন্তু সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের এই প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনের প্রশাসনিক কাঠামো এবং দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবে এবং ক্রীড়া কমিটির মতো সংবেদনশীল জায়গায় দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বোর্ড এবং সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে এই নিয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের এই প্রতিবাদী অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং পর্যবেক্ষণের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই ধরনের বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
