জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীদের টানে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারানো বগুড়ার প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজী, ২৪ বছর বয়সী সেড্রিক জুলিয়ান এবং ২৪ বছর বয়সী মো. রাকিব হোসেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শাহিন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনজনকে আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে রাখার আবেদন জানান। শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ আগস্ট ভোরে। বগুড়া থেকে চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামী মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন রনজিলা পারভীন। ওই দিন ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তারা অটোরিকশায় করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে যাচ্ছিলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারীরা রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়।
এই আকস্মিক টানে রনজিলা পারভীন ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে পড়ে যান। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত পান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর তার স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করার পর ৩০ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে র্যাব-২।
র্যাবের অভিযানে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্মার্টফোন, নগদ টাকা এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের পরবর্তীতে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এই পাঁচদিনের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হলো।
