সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখাটি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো নিজস্ব শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০০৯ সালে কলেজ পর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কলেজের ছাত্রীদের পাঠদান করে আসছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নিজস্ব শিক্ষক ও জনবল না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ২০০৫ সালে কলেজে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয় শাখায় ১ হাজার ৮৬৭ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। অন্যদিকে কলেজ শাখার দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৯৬ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে এবং একাদশ শ্রেণিতে আরও ৩০০ জন ছাত্রী ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে।
পুরো প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪৮ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন এবং দুটি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তবে কলেজ শাখার জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা জানিয়েছেন, কলেজ পর্যায়ে নিজস্ব শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরাই কলেজের ক্লাসগুলো নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমদ জানান, নিয়মিত রুটিনের বাইরে শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হলেও তারা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পাঠদান কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
গত ৩ আগস্ট বেলা ৩টা ১৮ মিনিটে ১০১ নম্বর কক্ষে দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা ক্লাসে ১৫০ জন ছাত্রীর বিপরীতে মাত্র সাতজন উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, মাধ্যমিক ও কলেজ উভয় স্তরের পাঠদানের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব এবং বিজ্ঞান বিভাগে প্রদর্শকের অনুপস্থিতিতে মাধ্যমিকের শিক্ষকদের দিয়েই ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শহরের অন্যান্য সরকারি কলেজের তুলনায় এখানে প্রতিদিন কম সংখ্যক ক্লাস নেওয়া হয় এবং বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া বিজ্ঞানাগারটি মাধ্যমিক পর্যায়ের উপযোগী হওয়ায় কলেজ পর্যায়ের ছাত্রীদের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক মো. দিদার চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে, বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ও শিক্ষার গুণগত মান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে কলেজ শাখাটি চললেও শিক্ষক ও জনবল নিয়োগের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজস্ব শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
