লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী শুভ দাসের মরদেহ মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামে তার মরদেহ পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় শুভ দাস নিহত হন।
মৃত্যুর তিন মাস ২৫ দিন পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো। শুভ দাস তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে তার পরিবারকে ভিটেমাটির দুই শতাংশ জমি বিক্রি করতে হয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা আশা করেছিলেন, শুভ বিদেশে কাজ করে পরিবারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তাকে কফিনে বন্দি হয়ে ফিরতে হলো। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের কাউন্সিলর মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে শুভ দাসের পরিবারকে ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
চলতি মাসের মধ্যেই পরিবারকে আরও তিন লাখ টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, জীবন বীমা প্রকল্পের আওতায় পরিবারটি আরও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। শুভ দাসের মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। জমি বিক্রি করে বিদেশে পাঠানো সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
স্থানীয়ভাবে শুভ দাসের মরদেহ পৌঁছানোর পর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে ভিড় করেন। লেবাননে চলমান সংঘাতের কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এর আগেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুভ দাসের মৃত্যুতে তার পরিবার যে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
সরকারি সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও স্বজন হারানোর বেদনা পরিবারটিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শুভ দাসের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারিভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে সরকার পাশে থাকার চেষ্টা করে। শুভ দাসের ক্ষেত্রেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।
তার পরিবারের আর্থিক সংকট নিরসনে সরকার ঘোষিত সহায়তাগুলো পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হবে। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। শুভ দাসের মরদেহ দেশে আসার মধ্য দিয়ে তার পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। পরিবারের সদস্যরা এখন তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
শুভ দাসের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার পরিবারের সদস্যরা এখন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই আর্থিক সহায়তা তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুভ দাসের মরদেহ পৌঁছানোর পর থেকে তার মা-বাবা ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা এখন ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। লেবাননে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশিরাও এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শুভ দাসের মৃত্যু প্রবাসীদের জীবনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার একটি বড় উদাহরণ হয়ে রইল। তার পরিবারের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।
শুভ দাসের মরদেহ দাফনের মাধ্যমে তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা হবে। তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সমাজসেবীরাও এগিয়ে এসেছেন।
