লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজার এলাকায় এক মাদকাসক্ত যুবকের দেওয়া আগুনে ছয়টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রোববার ভোরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরগুলোতে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামালসহ মোট ২৪টি কক্ষ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
অভিযুক্ত যুবকের নাম সোহেল হোসেন, যিনি স্থানীয় মৃত মো. রফিকের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। ঘটনার দিন ভোরে সোহেল নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তা মুহূর্তের মধ্যে পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ৯৯৯ নম্বরে কল করে সহায়তা চান।
খবর পেয়ে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সদর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে তার আগেই ছয়টি বসতঘর ও ২৪টি কক্ষ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সোহেলকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সোহেলের বিরুদ্ধে ঘরগুলোতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কেন সে নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছিল, তা বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
রায়পুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের লিডার সৈয়দ আহম্মদ জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল এবং এর আগেও সে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তবে ঠিক কী কারণে সে নিজের বসতবাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সোহেলের সুস্থতার অপেক্ষায় রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে তারা এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছেন যাতে দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকাসক্ত যুবকের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা মাদক নির্মূলে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সোহেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
