লক্ষ্মীপুর সদর ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের টাউন হল মিলনায়তনে লক্ষ্মীপুর সোসাইটির উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করার লক্ষ্যে সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশকে মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক প্রবেশ করানো হচ্ছে। তিনি তরুণ সমাজকে এই বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান। মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে পারলে সমাজের অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব হবে।
বর্তমান সরকার একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং অভাব-অনটনের মধ্যেও দেশ পরিচালনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করছেন। নকলমুক্ত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লক্ষ্মীপুর সোসাইটির সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হানিফ মুরাদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু এবং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইউছুফ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলফা স্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, আজকের তরুণ মেধাবীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তরুণরা যেন সমাজ ও জাতি গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির দিকনির্দেশনায় লক্ষ্মীপুর সোসাইটি এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হয়। বক্তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ভবিষ্যতে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি প্রদানের এই উদ্যোগকে উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষকরা স্বাগত জানিয়েছেন।
