রাষ্ট্রপতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মার্জনা চেয়ে আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
শাস্তি মওকুফ হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন জাকির হোসেন, হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জুন মাসে রাজস্ব খাতের সংস্কার আন্দোলনের সময় এই কর্মকর্তারা বদলির আদেশ পেয়েছিলেন। সেই সময় তাঁরা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত ও বেতন গ্রেড অবনমনসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারির পর এনবিআরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এর বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন। প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই আন্দোলনের ফলে দেশের শুল্ক ও কর কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়। এনবিআরের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করা হয়। আন্দোলনের সময় সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং বদলির আদেশ অমান্য করার মতো ঘটনাগুলো সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ৩০এ বিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা পরবর্তীতে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং মার্জনা প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের ওপর আরোপিত আগের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো কার্যকর থাকবে না। এনবিআরের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়ে অতীতে বিভিন্ন সময় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিশেষ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের মাধ্যমে দণ্ডাদেশ বাতিলের বিষয়টি সরকারি দপ্তরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজস্ব খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অচলাবস্থা এবং পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও তা বাতিলের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি দাপ্তরিক নিয়ম ও শৃঙ্খলার একটি বড় নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে শাস্তি মওকুফ হওয়া কর্মকর্তারা পুনরায় তাঁদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এনবিআরের সামগ্রিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই সিদ্ধান্ত কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
তবে সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিধিনিষেধ মেনে চলার বিষয়টি এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় সামনে এসেছে।
