রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই দিনের সরকারি সফরে পৌঁছেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের নিজ জেলায় এটিই তার প্রথম সফর। রবিবার দুপুর ১টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, রংপুর রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন তাকে অভ্যর্থনা জানান। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেন।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবির এবং মহাসচিব ডা. শহিদুজ্জামানও তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপতিকে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। গার্ড অব অনার পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি সেনুয়া কবরস্থানে যান।
সেখানে তিনি তার প্রয়াত বাবা-মায়ের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও শহরে অবস্থিত তার নিজ বাসভবনে যান। সফরের প্রথম দিন রবিবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির জন্য একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকেল সাড়ে ৩টায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই আয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেবেন। সফরের প্রথম দিনের সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন। এই সভায় জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এটি এই অঞ্চলের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের সূচনা করবেন। দুই দিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির সফরসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও রাষ্ট্রপতির এই সফর নিয়ে বেশ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। দুই দিনের সফর শেষে সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির প্রতিটি কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। সার্কিট হাউস থেকে শুরু করে প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই সফর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে স্থানীয় উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে এই সফর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
