রাজধানীর রামপুরায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর তাসমিরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও মোহাম্মদ অলি মিয়াসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা। এর আগে গত ২০ আগস্ট এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১২তম সাক্ষী হিসেবে শিক্ষার্থী রাতুল হাসান আদালতে তার জবানবন্দি প্রদান করেছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ওই সময় আদালত আসামিপক্ষের করা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে মোট ছয়টি অভিযোগ গঠন করেন।
এর মধ্য দিয়েই মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। মামলার চার আসামির মধ্যে বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুন বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। ঘটনার সময় তারা বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক রয়েছেন।
বিচার শুরুর আদেশের সময় গ্রেফতার দুই সেনা কর্মকর্তার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন ও হামিদুল মিসবাহ। পলাতক দুই পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন এবং প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
রামপুরায় সংঘটিত এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা অব্যাহত থাকবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। বিচারিক প্যানেল নির্ধারিত তারিখে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সাক্ষীদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অভিযোগগুলো প্রমাণে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে বলে জানিয়েছে। আসামিপক্ষ তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মামলার পরবর্তী তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করায় এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ওই দিনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং নির্ধারিত তারিখেই সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মামলার সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
