রাজশাহীর চারঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে ৭৮ বোতল ভারতীয় ‘জেডি’ মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চারঘাট থানাধীন মুক্তারপুর বালুরঘাট এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ১ বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী ব্যাটালিয়ন ১ বিজিবির অধীন ইউসুফপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা জানতে পারেন যে, সীমান্ত দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ইউসুফপুর বিওপির টহল দল চারঘাট থানাধীন মুক্তারপুর বালুরঘাট এলাকার একটি জঙ্গলে অবস্থান নেয় এবং ওত পেতে থাকে।
অভিযানের এক পর্যায়ে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক মাদক কারবারিকে মাথায় বস্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে নদী পার হয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা ওই কারবারিকে ধাওয়া করলে সে মাথায় থাকা বস্তাটি মাটিতে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৮ বোতল ভারতীয় ‘জেডি’ মদ উদ্ধার করে।
জব্দকৃত এই মাদকদ্রব্য পরবর্তীতে চারঘাট মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, চোরাচালান চক্রের মূল হোতা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য মাদক কারবারিদের শনাক্ত করার জন্য বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে। অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। উদ্ধার হওয়া এই মাদকের চালানটি সীমান্ত দিয়ে পাচারের সময় বিজিবির তৎপরতার কারণে জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে বিজিবি তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও বৃদ্ধি করেছে।
উদ্ধার হওয়া ৭৮ বোতল মদ বর্তমানে চারঘাট মডেল থানার হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সীমান্ত দিয়ে যে কোনো ধরনের অবৈধ পণ্য বা মাদকদ্রব্য প্রবেশ রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদক নির্মূলে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদকের চালানটি একটি বড় চোরাচালান চক্রের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিজিবি তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের সদস্যদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে। সীমান্ত সুরক্ষায় এবং মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে।
বিজিবি তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, দেশের সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। উদ্ধার হওয়া ৭৮ বোতল ভারতীয় মদ বর্তমানে চারঘাট মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
