রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া) আয়োজিত এই মেলাটি বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং এটি শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। মেলায় দেশি ও বিদেশি পর্যটন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। মেলার প্রথম দিন থেকেই ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো।
দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টলে গিয়ে তাদের পছন্দের গন্তব্যের ট্যুর প্যাকেজ, বিমান টিকিট, হোটেল ও রিসোর্ট বুকিং এবং ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা ও বিশেষ অফারগুলো যাচাই-বাছাই করে নিজেদের বাজেট অনুযায়ী ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। মেলায় দেশি-বিদেশি ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইনস, ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি এবং বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা অংশগ্রহণ করছে।
স্টলগুলোতে ভ্রমণসুবিধা এবং বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় প্রায় ১০০ প্রদর্শক অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ৬০ জন ট্রেড বায়ার এবং ১৫ হাজার দর্শনার্থীর অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি করা।
একই সঙ্গে এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। বোটোয়া সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ জানান, বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টকে তারা কেবল একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে পর্যটন, হাসপাতাল ও এভিয়েশন খাতে নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ জানান, আন্তর্জাতিক মানের একটি ট্রাভেল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি এতে বাস্তব ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও ফলপ্রসূ বৈঠকের সুযোগ থাকছে। সাধারণ ভ্রমণপ্রেমীরাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গন্তব্যের অফার সরাসরি যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবার মান ও নতুন নতুন গন্তব্যের তথ্য তুলে ধরছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দেশের পর্যটন প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের দেশের পর্যটন আকর্ষণগুলো তুলে ধরছেন। দর্শনার্থীরাও বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ভ্রমণ গন্তব্য সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাচ্ছেন। মেলাটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের তথ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই মেলাটি পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
