রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে একটি দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারীর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাইদুজ্জামান জানান, ভোরবেলা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে তারা দ্রুত ফ্লাইওভারের ওপর যান। সেখানে গিয়ে তারা এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, ফ্লাইওভার দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত কোনো গাড়ি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এই সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান আরও জানান, এখন পর্যন্ত নিহত নারীর নাম বা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফ্লাইওভারের মতো দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচলের রাস্তায় পথচারীদের চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও মাঝেমধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর পুলিশ ফ্লাইওভারের সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঘাতক গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা যাচাই-বাছাই করছেন এবং নিহতের পরিচয় খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। ফ্লাইওভারের ওপর পথচারীদের নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করে চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে আবারও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে। সাধারণত ফ্লাইওভারগুলোতে পথচারীদের হাঁটাচলা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আইনত নিষিদ্ধ।
তবুও অনেক সময় অসাবধানতাবশত বা অন্য কোনো কারণে পথচারীরা সেখানে উঠে পড়েন, যা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই দুর্ঘটনার ফলে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নিহতের পরিচয় শনাক্ত হলে তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
যদি পরিচয় পাওয়া না যায়, তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং ঘাতক গাড়িটিকে খুঁজে বের করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফ্লাইওভারের ওপর এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নজরদারি বাড়ানো এবং পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, দ্রুতই ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে।
