রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নেওয়াজ চৌধুরী মিতু নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যবসায়ীর বয়স ৫৭ বছর বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি নিজ ফ্ল্যাটে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ১১ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাসার সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নেওয়াজ চৌধুরীকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় নেওয়াজ চৌধুরী বাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তিনি ফ্ল্যাটের ভেতরে আটকা পড়েন এবং বের হতে পারেননি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটের আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার পরবর্তী তদন্তে আগুনের উৎস এবং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। বর্তমানে ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা অন্যান্য মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবনের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনটিতে থাকা অন্যান্য বাসিন্দারা অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হন। বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিমুক্ত কি না, তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সহায়তা নেওয়া হতে পারে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তারা ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক সংযোগ বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
