বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রাজধানীর বাসাবোর কুসুমবাগ দক্ষিণবাগ এলাকায় অবস্থিত ভেনিস আইসক্রিম কারখানাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম দাস অনুপ এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে কারখানার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং আইসক্রিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।
নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী এই জরিমানা করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়েছে। অভিযানে দেখা যায় যে, ভেনিস আইসক্রিম নামধারী এই কারখানাটি ড্যানিশ ও সেভেন আপ ব্র্যান্ডের নামে আইসক্রিম উৎপাদন ও সংরক্ষণ করছিল। এছাড়া কারখানায় আইসক্রিম তৈরির পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, আইসক্রিম রাখার স্টোরেজে আইসক্রিমের পাশাপাশি মাছ ও মাংস সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়া কারখানায় ব্যবহারের জন্য রাখা ভ্যানিলা ফ্লেভারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এসব অনিয়ম খাদ্য নিরাপত্তার পরিপন্থী বলে কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, কারখানাটির কোনো হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স নেই।
এছাড়া অগ্নিনির্বাপক লাইসেন্স এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআইয়ের সনদ দেখাতেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও এসব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে তাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।
বাসাবোর এই কারখানায় অভিযান পরিচালনার সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আইসক্রিম তৈরির মতো সংবেদনশীল খাদ্যপণ্য যেখানে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরি করার কথা, সেখানে মাছ-মাংসের সঙ্গে আইসক্রিম সংরক্ষণ করা এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ফ্লেভার ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া বিএসটিআইয়ের সনদ ছাড়া পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা ভোক্তা অধিকারের পরিপন্থী।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই জরিমানা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম দূর করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
আইন অনুযায়ী, কোনো খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যদি যথাযথ মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং লাইসেন্স বা সনদ প্রদর্শন করতে না পারে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাসাবোর ভেনিস আইসক্রিম কারখানার ক্ষেত্রেও সেই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এই জরিমানার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হয়।
জনস্বার্থ রক্ষায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
