রাজধানীর দারুসসালাম এলাকার মাতব্বরবাড়ি মসজিদ লেনে শনিবার রাতে এক গৃহবধূকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ওই নারী জানালার খোলা জানালার মধ্য দিয়ে তার ঘরের ভেতর ঢুকে আসা গুলির আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঘটনাটি শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটে। আহত গৃহবধূর নাম জাসমিন বেগম, তার বয়স ৩৮ বছর। তিনি ওই এলাকার একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। ঘটনার সময় তিনি তার ঘরের খোলা জানালার পাশে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন।
জাসমিন বেগমের ছেলে ইয়াসিন জানান, তার মা রাত সাড়ে আটটার দিকে জানালার পাশে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। ঠিক সেই সময় অজ্ঞাত পরিচয় কিছু দুর্বৃত্ত জানালার মধ্য দিয়ে হঠাৎ গুলি করে পালিয়ে যায়। এই আকস্মিক হামলার ফলে জাসমিন বেগম গুরুতর আহত হন।
হামলাটি হওয়ার পর জাসমিন বেগমকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
জাসমিন বেগমের পারিবারিক পরিচয় অনুযায়ী, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনাগর উপজেলার উত্তর ডাল্লা গ্রামের আব্দুল মাননানের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে রাজধানীর দারুসসালামের মসজিদ লেনে একটি ভাড়া করা টিনশেড বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
জাসমিন বেগমের ছেলে ইয়াসিন জানিয়েছেন যে, দুর্বৃত্তরা কেন তার মাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয় এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা শত্রুতা ছিল কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ আউটপোস্টের ইন্সপেক্টর মো. ফারুক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একজন নারীকে গুলির আঘাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। ওই নারী বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করা হয়েছে।
তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে যে, জাসমিন বেগুমের ডান হাতে গুলির আঘাত লেগেছে। পুলিশ এখন এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং ওই এলাকার আশেপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনাটি একটি সাধারণ আবাসিক এলাকায় ঘটে যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একটি টিনশেড বাড়িতে জানালার মধ্য দিয়ে গুলি চালানো এবং একজন নারীর ওপর এই ধরনের হামলা চালানো পুলিশের জন্য তদন্তের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ এখন হাসপাতালের রিপোর্ট এবং আহত নারীর সুস্থতার ওপর ভিত্তি করে করে তদন্তের حوالے করে এগিয়ে যাচ্ছে।
