রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এই অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তলও জব্দ করা হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর র্যাব-৪-এর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ওই নারীর নাম জেসমিন বেগম, যার বয়স ৩৮ বছর। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার উত্তর দাললা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের স্ত্রী।
বর্তমানে তিনি দারুস সালাম এলাকার মাতবরবাড়ি মসজিদ গলির একটি টিনশেড বাসায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানাতে রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর রাতে।
ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেসমিন বেগম নিজ বাসায় বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। তার ছেলে ইয়াসিন জানান, তার মা ঘরের জানালা খোলা রেখে টিভি দেখার সময় বাইরে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে গুলি ছোড়ে। এতে জেসমিন বেগমের ডান হাতে গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলির শব্দ ও মায়ের আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর ডান হাতে গুলির আঘাত রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দারুস সালাম থানাকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেসমিন বেগমের ছেলে ইয়াসিন জানিয়েছেন, কেন বা কী কারণে তার মাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
তাদের পরিবারের সাথে কারো কোনো শত্রুতা ছিল কি না, সে বিষয়েও তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি। র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই তারা তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
র্যাব-৪-এর মিডিয়া অফিসার নুরাঙ্গীর নাহিদ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাতবরবাড়ি মসজিদ গলি এলাকায় এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ঘটনার সময় ওই এলাকায় বেশ কিছু মানুষ উপস্থিত থাকলেও দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে।
জেসমিন বেগমের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল কি না, তা নিয়ে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা পিস্তলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে এবং এর মাধ্যমে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অতীতে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
