রাজধানীর ডেমরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল এবং একটি শর্টগানসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ৩৮ বছর বয়সী তরিকুল ইসলাম তাপস এবং ৩৫ বছর বয়সী মো. মাসুদ রানা। পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট ভোরে ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকার ৩৮ নম্বর রানীমহল রোডে অবস্থিত ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলার ঘটনাটি ঘটে। মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি একাধিক মোটরসাইকেলে করে এসে ওই বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালা লক্ষ্য করে পিস্তল ও শর্টগান দিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে জানালার কাঁচ ভেঙে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পরপরই ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির গেটের সামনের রাস্তা থেকে গুলির চারটি খোসা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে ডেমরা এলাকা থেকে তরিকুল ইসলাম তাপসকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন বরাবো এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ।
সেই অভিযান থেকে মো. মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের আস্তানা থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি সিঙ্গেল ব্যারেল শর্টগান এবং আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় দায়ের করা মামলার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে আরও একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাদের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এই হামলার মূল কারণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দূর করতে পুলিশ টহল বৃদ্ধি করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর এবং তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ অস্ত্র চোরাচালান বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের এই নেটওয়ার্কটি ভেঙে দেওয়ার জন্য কাজ করছে।
