বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার রাজধানীর জিগাতলায় অবস্থিত হেরিটেজ ইন্টার কন্টিনেন্টাল রেস্তোরাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুম মুনীরা কায়ছানের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
রাজধানীর সাত মসজিদ রোডের ৫৩ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটিতে অভিযান চালানোর সময় বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় রেস্তোরাঁটির রেফ্রিজারেটর তল্লাশি করে মেয়াদোত্তীর্ণ অনথন পাতি এবং ক্র্যাব সস পাওয়া যায়। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ বা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়া রেস্তোরাঁটিতে আমদানিকারকের তথ্যবিহীন বিভিন্ন বিদেশি খাদ্য উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সয়াসস, চিকেন পাউডার এবং কাশমিরি মরিচ। এসব পণ্যের গায়ে আমদানিকারকের কোনো বৈধ তথ্য বা লেবেল না থাকায় সেগুলোর মান ও উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানিকারকের তথ্যবিহীন এসব পণ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অভিযানে কেবল খাদ্যের মান সংক্রান্ত সমস্যাই নয়, বরং রেস্তোরাঁটির ব্যবসায়িক নথিপত্রেও ঘাটতি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের হালনাগাদকৃত ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সনদ এবং নিয়মিত পানি পরীক্ষার সনদও তারা দেখাতে পারেনি। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী, খাদ্য ব্যবসা পরিচালনার জন্য এসব নথিপত্র হালনাগাদ রাখা এবং কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এসব নথিপত্র দেখাতে না পারায় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনিবন্ধিত খাদ্য উপকরণ সংরক্ষণের দায়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রেস্তোরাঁগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা এবং সঠিক মানসম্পন্ন খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
আইন অমান্যকারী এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্যগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এই ধরনের তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেস্তোরাঁ মালিকদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বারবার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না, যার ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
